গল্প:রহস্যময় ঘরজামাই😎
পুরা গল্প একসাথে।
প্রথম পর্ব ফেইসবুকে দেওয়া আছে।এটা দ্বিতীয় পর্ব থেকে শুরু।
জান্নাত:কি বলছো আম্মু,,,কখন, কিভাবে এমন হলো?
আম্মু:এতো কথা বলার সময় নেই এখন, তুই তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে আয় আমি হাস্পাতালের ঠিকানা পাঠিয়ে দিচ্ছি।
এরপর কল টা কেটে গেলো।
জান্নাত ভেবেছিলো তার বাবার কাছ থেকে জানতে চাইবে কেনো এমন একটা ফকিরের কাছে তাকে বিয়ে দিয়েছে।
এখন কি না তার বাবার এই অবস্থা।
জান্নাতের চোখে পানি দেখে জাহিদ বললো,,
জাহিদ:কি হয়েছে আপনার,, আপনি কান্না করছেন কেনো?
জান্নাত:আব্বু হাস্পাতালে ভর্তি,আমাদের তাড়াতাড়ি সেখানে যেতে হবে।
জাহিদ:কি বলছেন এসব,,তাড়াতাড়ি চলেন।
এরপর দুজনে গাড়িতে করে হাস্পাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
হাস্পাতালের ভিতরে গিয়ে দেখলো সবাই ওটি রুমের বাহিরে অপেক্ষা করছে।
জান্নাত গিয়ে তার আম্মুকে জড়িয়ে কান্না করতে লাগলো।
বেশ কিছুক্ষন পর ডাক্তার ওটি রুম থেকে বের হলো।
জান্নাত:ডাক্তার আমার আব্বু এখন কেমন আছেন?
ডাক্তার:সরি মিসেস জান্নাত,,আপনার বাবাকে আমরা বাচাতে পারলাম না,,
কথাটা শুনে সবাই যেনো শকড খেয়ে গেলো।
কান্নার একটা পরিবেশ তৈরি হয়ে গেলো মূহুর্তের মধ্যেই।
তিনদিন পর,,,,
জান্নাত এখন তাদের বাড়িতেই থাকে।
কেননা জান্নাত কখনো ভাবতেও পারিনি তার হাসবেন্ড একটা ফকির।
যার কোনো বাড়ি গাড়ি তো দূরের কথা টাকা পয়সা ও নেই।
জাহিদকে ডিভোর্সও দিতে পারছে না,,কারন জান্নাত দুই বছরের আগে জাহিদকে ডিভোর্স দিলে সব সম্পত্তি অনাথ আশ্রমে চলে যাবে।
যেটা তার বাবা জীবিত থাকাকালীন উয়িল করে গেছেন।
জান্নাত এ বিষয় টা কেনো জানি মানতে পারছে না।
তার বাবা কি কারনে এসব করে গেছেন।
আর একটা ফকিরের সাথেই বা তার কেনো বিয়ে দিলেন।
এসব ভাবতে ভাবতেই দরজার সামনে কারো নক করার শব্দ পেলো।
জান্নাত তাকিয়ে দেখলো জাহিদ সেখানে দাড়িয়ে আছে।
জান্নাত:কিছু বলবেন?
জাহিদ:নাহ,,বলছিলাম যে আমি তো আপনার স্বামী তাই না?
জান্নাত:তো?
জাহিদ:আমি আজকে তিনদিন ধরে বাহিরে ফ্লোরে ঘুমাচ্ছি এটা কি ঠিক?
জান্নাত:তাহলে কি তুই আমার সাথে ঘুমাতে চাচ্ছিস নাকি?
জাহিদ:যেহেতু আপনি আমার বিয়ে করা বউ,,সেক্ষেত্রে আমার তো আপনার সাথেই ঘুমানো উচিৎ।
জান্নাত:চুপ কর ছোটো লোকের বাচ্চা,,তোর সাহস কি করে হয়,,আমার সাথে ঘুমানোর।
তোর কি সেই যোগ্যতা আছে আমার সাথে ঘুমানোর?
আগে নিজের পায়ে দাড়াতে শিখ এরপর আমার কাছে আছিস।
এখন আমার চোখের সামনে থেকে যা।
জাহিদ একরাশ বুক চাপা অভিমান নিয়ে চলে যেতে চাইলে,,,
জান্নাত:শুন,,
জাহিদ:জ্বি বলুন,,(খুশি হয়ে)
জান্নাত:কালকে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠবি,,বাড়ির সব কাজ গুলো তুই সামলাবি।
এটাই হলো তোর ডিউটি।
এভাবে পড়ে পড়ে খাওয়া চলবে না এ বাড়িতে।
জাহিদ মাথা নিচু করে বললো,,
জাহিদ:আচ্ছা,,
এরপর জাহিদ তার আগের জায়গায় চলে আসলো।
মানে নিচ তলায় সিড়ির নিচে যে ফাকা জায়গা আছে সেখানে।
আজকে তিনদিন ধরে সে এখানেই ঘুমাচ্ছে।
তাকে কেউ সামান্য পরিমান ও সম্মান করছে না।
সে যে এ বাড়ির জামাই এটা কেউ নামতেই চাচ্ছে না।
তার একটাই কারন সে ফকির।
জাহিদ বালিশটায় কয়েকবার নাড়াচাড়া দিয়ে শুয়ে পড়লো।
এরপর মানিব্যাগ টা বের করে জান্নাতের ছবি খানা বের করে তার সাথে কথা বলতে লাগলো,,
জাহিদ:এই যে রাগী মেয়ে,,তোমার এই চোখের মায়ায় পড়ে আজকে আমার এই অবস্থা।
প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছিলাম, সেদিন থেকেই তোমার প্রতি আমি দুর্বল হয়ে গিয়েছি।
জানি না,কবে তুমি আমার মনের ভাষা গুলো বুঝতে পারবে।তোমাকে পাওয়ার জন্য আমি সব কিছু সহ্য করতে রাজি আছি।
এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে মনে নেই।
সকাল পাচ টার দিকে পানির ছিটায় জাহিদের ঘুম ভাংলো।
হুরমুর করে উঠে বসলো জাহিদ।
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে জান্নাত হাতে একটা মগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জান্নাত:এই যে জমিদার,,এতো বেলা করে ঘুমালে, বাড়ির কাজ কে করবে শুনি?
জাহিদ:আমি এখুনি করে দিচ্ছি সব,,
জান্নাত:কিভাবে করবি,,বাড়িতে বাজার নেই,,তাড়াতাড়ি গিয়ে বাজার করে নিয়ে আয়।
এই নে ধর বাজারে ব্যাগ আর টাকা।
জাহিদ ব্যাগ আর টাকা হাতে নিয়ে উঠে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
বাজার করে বাড়িতে এসে রান্না ঘরে বাজার গুলো রাখার পর,,
জাহিদ:এই যে নিন,, যা যা লিখা ছিলো সব নিয়ে এসেছি।
জান্নাতের আম্মু:শুধু কি বাজার করে আনলেই হবে নাকি?
জাহিদ:তাহলে?
জান্নাতের আম্মু:মরন,,,তাড়াতাড়ি রান্না বসিয়ে ফেলো,,এক ঘন্টার মধ্যে যেনো টেবিলের সামনে খাবার রেডি দেখি।
জাহিদ:রান্নাঘরের বুয়ার কি শরীর খারাপ,ওনি আজকে রান্না করবেন না?
জান্নাতের আম্মু:আমার মুখের উপর কথা?
আমি যা বলেছি তাই করবে,এখন থেকে বাজার করা রান্না করা,ঘর মুছা,গাড়ি পরিষ্কার করা জুতা মুছা কাপর-চোপর ধোয়া এসব কাজ তুমি করবে।
জাহিদ শাশুড়ী আম্মুর মুখ থেকে এমন কথা শুনে কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না।
তার এখন চুপচাপ তাদের কথা শুনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
তাই এক এক করে বাজার থেকে সব কিছু বের করে রান্না করতে লাগলো।
জাহিদ আগেও অনেকবার নিজে নিজে রান্না করেছে।
সেই সুবাদে তার রান্না মোটামুটি জানা আছে, কিভাবে করতে হয়।
রান্না শেষ হওয়ার পর টেবিলে একে একে সব খাবার পরিবেশন করলো।
সকাল দশটায় জান্নাত দুইতলা থেকে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে বলে।
জাহিদ জান্নাতের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
কতই না সুন্দর লাগছে জান্নাতকে।
জান্নাত এসে সোজা খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো।
জান্নাত আর জান্নাতের আম্মু খাবার টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে,আর জাহিদ পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সাহেরা খাতুন এক এক করে খাবার গুলো চেক করতে লাগলো কিছু ভুল ধরতে পারে কি না।
কিন্তু সব গুলো খাবার চেক করেও তিনি কোথাও কোনো ভুল খুজে বের করতে পারলো না।
প্রত্যেক টা খাবারই ভালো হয়েছে কিন্তু সেটা তো তাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না।
তাই ডালের বাটিটা হাতে নিয়ে জাহিদের মুখে ঢেলে দিলেন।
সাহেরা খাতুন:এসব কি রান্না করেছো হুম?
জাহিদ হাত দিয়ে মুখ থেকে ডাল মুছতে মুছতে বললো,
জাহিদ:কেনো মা,,কি সমস্যা হয়েছে?
সাহেরা খাতুন:ডালে এতো পানি দিয়েছো কেনো?
জানো না,,আমরা ডালে পানি বেশি দিয়ে খেতে পারি না।
জাহিদ:আমি তো আগে জানতাম না,,সামনে থেকে আর এমন ভুল হবে না মা,,,
সাহেরা খাতুন:মনে থাকে যেনো,,এবার ফ্লোর টা পরিষ্কার করে ফেলো তাড়াতাড়ি,,
জাহিদ:জ্বি,,আমি এখুনি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
জাহিদ ওয়াশরুমে চলে গেলো পরিষ্কার হওয়ার জন্য।
জাহিদ চলে যাওয়ার পর,,
জান্নাত:আম্মু,,তুমি ওকে এভাবে শুধু শুধু বকলে কেনো?
ডাল তো ভালোই হয়েছিলো,,
সাহেরা খাতুন:আরে শাসন না করলে পরে বেশি মাথায় চড়ে বসবে।
তাই আগে থাকতেই শাসনের মধ্যেই রাখছি।
জান্নাত:তা তুমি ঠিক বলেছো আম্মু,,,আমিও তোমার মতো করেই শাসনের রাখছি।
সাহেরা খাতুন:হুম,,যতো পারবি শুধু অত্যাচার করতে থাকবি,,এক সময় দেখবি এ বাড়ি থেকে চলে যাবে।
আর না যাওয়া অব্দি এভাবেই অত্যাচার চলতে থাকবে।
জান্নাত:ঠিক আছে আম্মু,,আমার এখন অফিসে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে,,আমি গেলাম আম্মু অফিসে।
সাহেরা খাতুন:আচ্ছা সাবধানে যাস,,,
জান্নাত খাবার খাওয়া শেষ করে বাহিরে বের হয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো।
এরপর ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে সোজা অফিসের সামনে এসে থামালো।
জান্নাত গাড়ি থেকে নেমে অফিসের ভিতরে প্রবেশ করলো।
অফিসের স্টাফ রা সবাই হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
একে একে সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছে নতুন বিয়ে হওয়ার উপলক্ষে এবং নতুন বস হিসেবে আসাতে।
জান্নাত হাসি মুখে মেনে নিলেও মনে মনে বিয়ের জন্য শুবেচ্ছা জানানোর জন্য বেশ বিরক্তবোধ হচ্ছে।
সবার সাথে কৌশল বিনিময় করে নিজের কেবিনে গেলো।
কেবিনে ঢুকার পর এক এক করে সব ফাইল গুলো নাড়াচাড়া দিয়ে দেখতে লাগলো।
একটা ফাইল হাতে নিয়ে জান্নাত অবাক হয়ে যায়।
বিষয়টি জানার জন্য জান্নাত ম্যানেজার কে কল দিলো।
ম্যানেজার:আসসালামু আলাইকুম ম্যাম,,
জান্নাত:ওয়ালাইকুম আসসালাম,,,আপনি একটু আমার কেবিনে আসুন এক্ষুনি,,
ম্যানেজার:জ্বি ম্যাম আসছি,,,
একটু পর ম্যানেজার কেবিনে ঢুকলো,,
ম্যানেজার:জ্বি ম্যাম,বলুন,,
জান্নাত:এই ফাইলে ৫০০ কোটি টাকা পেন্ডিংয়ে পড়ে থাকার কারন কি?
ম্যানেজার:আসলে ম্যাম,,আমরা যেই কোম্পানির সাথে ডিল করেছিলাম সেই কোম্পানির এমডি স্যার কয়েকদিনের জন্য দেশের বাহিরে গিয়েছেন কিসের যেনো একটা জরুরি মিটিংয়ের জন্য।
তিনি সেখান থেকে না আসা পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই ম্যাম,,
জান্নাত:মানে কি?আপনি জানেন এর জন্য আমাদের কোম্পানির কতো বড় লস হবে,,,এর ক্ষতিপূরণ কিভাবে সামলাবো?
ম্যানেজার:আমাদের কোম্পানির সাথে নিলয় খান পার্টনারে আছেন।
আপনি ওনার সাথে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন।
নিলয় খানের নাম বলাতে জান্নাতের মনে পড়ে যায়,, এই নামে তার একটা ভার্সিটি লাইফে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো।
জান্নাত:আচ্ছা আপনি ওনার নাম্বার টা দিন আমি যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখছি।
ম্যানেজার:এই যে ম্যাম নিন।
জান্নাত:ওকে আপনি এবার আসতে পারেন,পরে দরকার পড়লে আপনাকে ডাকবো।
ম্যানেজার:ওকে ম্যাম,,
ম্যানেজার চলে যাওয়ার পর জান্নাত নাম্বারে কল দিলো।
দুইবার রিং হওয়ার পর কলটা রিসিভ হলো।
ওপাশ থেকে,,
নিলয়:হ্যালো,,কে বলছেন?
জান্নাত:জ্বি আমি জি,কে গ্রুপ অব কোম্পানি থেকে জান্নাত বলছি।
নিলয়:আপনার ভয়েজটা খুব চেনা চেনা লাগছে,,
জান্নাত:আমারও আপনার ভয়েজটা পরিচিত মনে হচ্ছে।
নিলয়:আচ্ছা তুমি কি সেই ভার্সিটির জান্নাত নয়তো আবার, যার সাথে আমার ফ্রেন্ডশীপ ছিলো,,
জান্নাত:সেটা তো তুমি সামনে না আসলে ক্লিয়ার ভাবে বলা যাচ্ছে না।
নিলয়:ওকে আমি দশ মিনিটের মধ্যে আসছি।
জান্নাত:ওকে,,তাহলে সামনাসামনি কথা হচ্ছে।
,,,,,
জাহিদ সম্পুর্ন বাড়ির কাজ কর্ম শেষ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লো।
সে মনে মনে ভাবছে,,এভাবে তো বাড়ির কাজ করে চলবে না,,আমাকে বাড়ির কাজের পাশাপাশি বাহিরে গিয়ে কাজের সন্ধান করতে হবে।
তাহলে জান্নাতের জন্য কিছু জিনিস তো উপহার হিসেবে দেওয়া যাবে।
সেজন্য জাহিদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লো।
বাহিরে এসে আশে পাশে কাজের সন্ধান করতে লাগলো।
বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে একটা বিজ্ঞপ্তিতে জাহিদের চোখ পড়লো।
যেখানে ফুড পান্ডায় ডেলিভারি ম্যান হিসেবে পার্ট টাইম জব অফার করছে।
সময় নষ্ট না করে জাহিদ সেই নাম্বারে কল দিয়ে লোকেশন মতো রেস্টুরেন্টে চলে গেলো।
সেখানে গিয়ে ইন্টারভিউ দেওয়ার পর চাকরি কনফার্ম হয়ে গেলো।
প্রতিদিন চার ঘন্টা ডিউটি মাসে পনেরো হাজার টাকা বেতন।
যদিও এটা জান্নাতের কাছে তুচ্ছ কিন্তু জাহিদের কাছে এই টাকাই এখন অনেক মুল্য।
আজকে থেকেই তাকে নাকি ডিউটি করতে হবে তাই আর না করলো না,,ডিউটি তে লেগে পড়লো।
,,,,
নিলয় খান জান্নাতের অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে সোজা জান্নাতের কেবিনের সামনে আসলো।
নিলয়:আসবো ম্যাম?
জান্নাত তাকিয়ে দেখলো নিলয় বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে,,
জান্নাত মুখে হাসি দিয়ে বললো,,,
জান্নাত:আরে তোমাকে আবার পারমিশন নিয়ে আসতে হবে নাকি,,চলে আসো,,
নিলয় জান্নাতের সামনে এসে হেন্ডসেক করে,,
নিলয়:তা কি খবর তোমার?অনেকদিন পর তোমার দেখা পেলাম,,
জান্নাত:এই তো আছি,,,ভালো তোমার কি খবর?
নিলয়:আমিও ভালো আছি,,শুনলাম তোমার বিয়ে + আংকেল হঠাৎ করে মারা গেলেন,,
জান্নাত:তুমি কিভাবে জানলে আমার বিয়ের কথা?
নিলয়:তোমার বিয়ের খবর জানতাম না,,তবে তোমার বাবা তার মেয়ের বিয়ের কার্ড আমাকে দিয়েছিলেন।
জান্নাত:তাহলে আসলে না কেনো?
নিলয়:আমার একটা জরুরী মিটিং থাকার কারনে দেশের বাহিরে ছিলাম কালকেই দেশে ফিরেছি।
সে কারনে আসতে পারি নি।
এরপর আবার তোমার বাবাও চলে গেলেন,,
জান্নাত:হুম,,,
নিলয়:তা নতুন সংসার,, কেমন যাচ্ছে দিনকাল?
জান্নাত:এই তো আছি,,,কাজের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতে একটু ব্যস্ত।
নিলয়:তা আমাকে কি কারনে স্মরণ করলে?
জান্নাত:এটার জন্য (ফাইল টা নিলয়কে দেখিয়ে)
নিলয়:ওহ,,এই প্রজেক্ট টা তোমার বাবা ঠিক করে ছিলো,আমি অবশ্য তোমার বাবাকে না করেছিলাম কিন্তু ডাবল লাভ আসবে সেজন্য আমিও পরে আর কিছু বলতে পারি নি।
জান্নাত:কিন্তু এখন তো সমস্যা হয়ে গিয়েছে,,
নিলয়:কি সমস্যা?
জান্নাত:আমাদের কোম্পানি থেকে ৫০০ কোটি টাকা এখানে ইনভেস্ট হয়ে গিয়েছে,,,আর যাদের সাথে হয়েছে, সেখান থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
নিলয়:কারন কি?
জান্নাত:সেই কোম্পানির এমডি স্যার নাকি দেশের বাহিরে আছেন,,কবে ফিরবেন কেউ জানে না।
নিলয়:এখন আমাকে কি করতে হবে?
জান্নাত:তুমি যেহেতু আমাদের কোম্পানির সাথে শেয়ারে আছো তাই আপাতত আমাদের কোম্পানির এই খারাপ সময়ে তোমাকে পাশে থাকার জন্য বলছি।
নিলয়:শুধু এতো টুকুই,,, এ আর এমন কি,,সমস্যা নেই।
তা কত টাকা লাগবে তোমার?
জান্নাত:আপাতত ১০০কোটি টাকার মতো দিলেই কাজ চালানো যাবে,,এরপর প্রজেক্টের টাকাটা পেয়ে গেলে তোমার টাকা ব্যাক করে দিবো।
নিলয়:সমস্যা নেই,,দেওয়া যাবে তবে,,তার জন্য,,,
জান্নাত:কি,,,,(ভয় পেয়ে)
নিলয় একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,
নিলয়:তার জন্য আজকে আমাদের সব বন্ধুদের সাথে করে পার্টি দিতে হবে।
জান্নাত ও মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো,,
জান্নাত:এই ব্যাপার,, আচ্ছা সমস্যা নেই দিবো।
কিন্তু বাকিদের কোথায় পাবে?
নিলয়:আমার কাছে কয়েকজনের নাম্বার আছে আর তোমার কাছে যাদের নাম্বার আছে তাদের কে চলে আসতে বলো,,
জান্নাত:ওকে ডান,,,
এরপর জান্নাত নিলয়ের সাথে বেরিয়ে পড়লো পার্টি করার জন্য।
জান্নাত গাড়িতে থাকা অবস্থায় তার কয়েকজন বান্ধুবীকে কল করে ঠিকানা দিয়ে দিলো যেখানে পার্টি হবে।
নিলয়ও তার বন্ধুদের চলে আসতে বললো।
বিকেলে সবাই নিলয়ের গেস্ট হাউজে সবাই উপস্থিত হলো।
একজন আরেকজনকে অনেক দিন পর দেখা হওয়াতে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানালো।
আদিভা:কি রে জান্নাত,,, বিয়েটা কেমন কাটালি?
জান্নাত:হুম,,ভালোই,,
ইরা:তা হাসবেন্ড কেমন রে,,,নিশ্চয়ই কোটিপতির কাউকে পটিয়ে বিয়ে করে ফেলেছিস,,
কথাটা বলেই সবাই হেসে দিলো,,
জান্নাত:তা আর বলতে,,কোটিপতি স্বামী ছাড়া আজকাল দিনে চলে যায় নাকি,,,
আদিভা:তুই পারিস ও বটে জান্নাত,,,বিয়ের আগে বলেছিলি কোটিপতির ছেলেকে বিয়ে করে দেখিয়ে দিবি আর করেও ফেললি,,তা আমাদের দুলাভাইকে দেখাবি না?
জান্নাত:সে এখন দেশের বাহিরে গিয়েছে,,অফিসের কি একটা মিটিংয়ের জন্য,, আসলে অবশ্যই তোদের সাথে মিট করিয়ে দিবো নে।(আসলে জান্নাত চায় না সবার সামনে ছোটো হতে তাই এমন কথা বলা)
নিলয়:তোমাদের গল্প করা শেষ হলে বলো,,এইবার খাবার অর্ডার দেই।
ইরা:হুম তারাতাড়ি দে,,,
নিলয় অনলাইনে খাবার অর্ডার করলো।
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর ডেলিভারি ম্যান বাইকে করে খাবার নিয়ে গেস্ট হাউজের সামনে থামলো।
এরপর খাবারের প্যাকেট টা হাতে নিয়ে দরজার সামনে এসে কলিং বেল চাপ দিলো।
একটু পর জান্নাত দরজা খুলে দেওয়ার পর সামনে যাকে দেখতে পেলো তাকে দেখে তো অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,,,,
চলবে,,,,,
পরের পর্ব গুলো দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করেন।

Post a Comment