Top News

রহস্যময় ঘরজামাই😎 part 2

 গল্প:রহস্যময় ঘরজামাই😎

...............👉 (পর্ব-2) 👈..............



জান্নাত তাকিয়ে দেখলো তার সামনে জাহিদ দাঁড়িয়ে আছে।

এমন একটা পরিস্থিতিতে জান্নাত এখন কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

জাহিদ ও বুঝতে পারছে না,,তার সদ্য বিয়ে করা বউ অফিসের কাজ ফেলে এখানে কি করছে।

জাহিদ দরজার ফাকা যায়গা দিয়ে যতো টুকু দেখা যায় তাতে বুঝতে পারলো ভিতরে কয়েকজন ছেলে আর মেয়ে আছে।

জান্নাত কোনো কথা না বলে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে জাহিদের হাত থেকে খাবার গুলো নিয়ে টাকা গুলো জাহিদের মুখে ছুড়ে দিয়ে দরজা টা জাহিদের মুখের উপর আটকিয়ে দিলো।

ইরা:কিরে এতোক্ষন লাগলো কেনো আসতে?

জান্নাত:খুচরা টাকা ভাংতি ছিলো না,,সেজন্য একটু দেরি হয়েছে।

এরপর তারা সবাই খাবার গুলো খেতে শুরু করলো।

জাহিদ নিচে পড়ে থাকা টাকা গুলো কুড়িয়ে বাইকটা চালু করে গেস্ট হাউজ থেকে বের হয়ে আসলো।

কাজ শেষ করে রাতের বেলা জাহিদ যখন বাসায় ফিরলো,,,

জান্নাত:তোর এতো বড় সাহস কি করে হলো?

জাহিদ:কেনো,,,আমি আবার কি করলাম?

জান্নাত:তুই আমাদের কে না জানিয়ে এসব কাজ করে বেড়াচ্ছিস কি কারনে?

আজকে যদি আমার বান্ধুবীরা কেউ একজন তোকে দেখে ফেলতো তাহলে আমার মান-সম্মান টা কোথায় থাকতো সেটা কি তুই একবার ভেবে দেখেছিস?

জাহিদ:আমি কোনো চুরি বা ডাকাতি করছি না যে,আপনার মান-সম্মান চলে যাবে।

তাছাড়া আমি পুরুষ মানুষ,এভাবে একা একা তো বাড়িতে বসে থাকতে পারি না,তাই টুকটাক কাজ করছি।

সাহেরা খাতুন:আহ জান্নাত,,,থাক না,ছেলেটা যা করছে করতে দে না,,,তা বাবা জাহিদ,,যাও তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার টা খেয়ে আসো। 

জাহিদ:জ্বি,,

এরপর জাহিদ চলে গেলো ওয়াসরুমে।

জান্নাত:আম্মু,,তুমি এসব কি বলছো,,তোমার মাথা ঠিক আছে?

সাহেরা খাতুন:আমার মাথা ঠিক আছে,,আরে বোকা মেয়ে শুন,,,সে যতো বাহিরে থাকবে,আমাদের জন্য ততো ভালো। 

জান্নাত:কিভাব আম্মু?

সাহেরা খাতুন:বাড়িতে কত মেহমান আসে,,তাদের সামনে তো এই ফকির টাকে জামাই হিসেবে পরিচয় দেওয়া যায় না।

তার চেয়ে বরং যতোক্ষন বাহিরে থাকবে ততক্ষণ ভালো।

তাছাড়া বাড়িতে যতোক্ষন থাকবে,ততোক্ষন তো বাড়ির সব কাজ তাকে দিয়েই করাবো।

সব কাজের ছেলে আর মেয়ের তখন ছুটি,,,

জান্নাত:ওয়াও,,,আম্মু তোমার মাথায় দেখছি অনেক বুদ্ধি,,,

সাহেরা খাতুন:বুদ্ধি ছিলো বলেই তো তোর বাবাকে বিয়ে করেছিলাম।

এখন যা ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে আয়,,

জান্নাত:নাহ,,আম্মু আমার খিদে নেই,,,বাহিরে থেকে খেয়ে এসেছি বন্ধুদের সাথে।

সাহেরা খাতুন:আচ্ছা তাহলে গিয়ে রেস্ট নে।

জান্নাত:ওকে আম্মু,,

জাহিদ ফ্রেশ হয়ে রান্না ঘরে গেলো খাবার খেতে।

হাড়ির ভিতরে সামান্য কিছু খাবার অবশিষ্ট পড়ে রয়েছে।

সেগুলো একটা প্লেটে উঠালো।

এরপর তরকারির ঝোল নিয়ে ভাত দিয়ে খেতে লাগলো।

এমন খাবার আজকে নতুন খাচ্ছে না জাহিদ।

প্রতিদিন বেচে যাওয়া খাবার টুকুই তার জন্য রাখা হয়।

এরপর জাহিদ খাবার খাওয়া শেষ করে তার জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। 

এভাবেই বেশ কয়েকদিন কেটে গেলো।

এমনি একদিন দুপুর বেলা সাহেরা খাতুন আর তার বান্ধুবী গেস্ট রুমে বসে কথা বলছিলো।

কথা বার্তা শেষ হওয়ার এক পর্যায়ে,, 

সাহেরা খাতুন:আবার কিন্তু সময় পেয়ে আসবে,,,এভাবে আড্ডা দিতে বেশ ভালোই লাগে।

বান্ধুবী:আমারও তো ভালোই লাগে কিন্তু আসার সময় কি একটা সমস্যায় পড়লাম,,,

সাহেরা খাতুন:কেনো কি হয়েছে?

বান্ধুবী:আমার বাম পায়ের জুতা টা ছিড়ে গিয়েছে,,এখন কিভাবে যে হেটে বাসায় যাই,,

সাহেরা খাতুন:ওহ এই ব্যাপার,,, দাড়াও আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

জাহিদ,,,বাবা জাহিদ,,,,

জাহিদ ডিউটি তে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলো। 

সাহেরা খাতুনের ডাক শুনে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসলো।

জাহিদ:জ্বি,,, আমাকে ডাকছিলেন?

সাহেরা খাতুন:ওনার জুতা টা মুচির কাছ থেকে ঠিক করে এনে দাও তো,,,

জাহিদ,,, তার শাশুড়ীর এমন কথা শুনে রীতিমতো অবাক।

এমনকি তার বান্ধুবীও অবাক,,

বান্ধুবী:আরে না না,,,জামাই মানুষ,,, এসব কাজ কি তাকে দিয়ে মানাবে?

সাহেরা খাতুন:আরে ছেলেটা অনেক লক্ষি,, সব কাজ করতে পারে।

কি হলো,, ওনার পা থেকে জুতা টা খুলে তাড়াতাড়ি ঠিক করে আনো।

জাহিদ মহিলাটির পা থেকে জুতাটি খুলে হাতে নিলো।

বান্ধুবী:দেখো,,,আবার নষ্ট না হয়ে যায়,,,এটা কিন্তু অনেক দামী জুতা,,,হাতে না নিয়ে একটা শপিং ব্যাগে নাও।

জাহিদ জুতা টা হাতে নিয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো।

সাহেরা খাতুন:দাঁড়িয়ে না থেকে একটা ব্যাগে জুতা টা ভরে তাড়াতাড়ি ঠিক করে আনো।

জাহিদ:জ্বি,,,,

এরপর জাহিদ একটা শপিং ব্যাগে জুতা টা ভরে বাহিরে গিয়ে বাইক টা চালু করে মুচির কাছে চলে গেলো।

জুতা ঠিক করাচ্ছে এমন সময় তার ফোন টা বেজে উঠলো। 

জাহিদ ফোন টা হাতে নিয়ে দেখলো জান্নাতের নাম্বার থেকে কল এসেছে।

একটা মুচকি হাসি দিয়ে কল টা রিসিভ করলো। 

জাহিদ:হ্যালো,,,

জান্নাত:তাড়াতাড়ি আমার অফিসে আসো তো,,কিছু জরুরি কাজ আছে।

জাহিদ:ঠিক আছে,,(খুশি হয়ে)

এরপর ফোন টা কেটে গেলো। 

জাহিদ মনে মনে অনেক খুশি হলো,,এতোদিন পর জান্নাত তাকে কল দিয়েছে।

জাহিদ ভাবতে লাগলো,,,মনে হয় আজকে তাকে অফিসের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ডাক দিয়েছে।

তাই মুচির কাছ থেকে জুতাটা ঠিক করিয়ে বাসায় এসে জুতা টা দিয়ে,তারাতাড়ি অফিরের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

অফিসে যাওয়ার আগে জাহিদ একটা ফুলের দোকানে আসলো জান্নাতের জন্য ফুলের তোরা নেওয়ার জন্য। 

সাথে একটা কার্ডে জান্নাতের জন্য কিছু ভালোবাসার চিরকুট লিখে সেটা ফুলের তোরায় রাখলো।

এরপর অফিসের সামনে এসে বাইকটা পার্কিং করে ভিতরে প্রবেশ করলো।

তাড়াহুড়া করে ফুল হাতে নিয়ে সামনে যেতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে জান্নাতের একজন ক্লান্টের সাথে ধাক্কা খেলো জাহিদ।

এতে তার হাতে থাকা সমস্ত ফুল ফুলো নিচে পড়ে গেলো।

ক্লাইন্ট:ইউ ইডিয়ট,, চোখে দেখতে পাছ না নাকি,,কোথা থেকে যে এসব উঠে আসে এখানে মুখ দেখানোর জন্য। 

এই অফিসে পা রাখার মতো যোগ্যতা তোর নেই,,আর দেখে মনে হচ্ছে এটা তোর বাপের বাড়ি।

আসলে ক্লাইন্ট জাহিদের পড়নের কাপড় দেখে মনে করেছে কোনো কাজের লোক অথবা অফিস বয়।

ক্লাইন্ট চলে যাওয়ার পর জাহিদ নিচে পড়ে থাকা কার্ড টি তুলার জন্য নিচে বসলো।

সামনে তাকাতেই লক্ষ্য করলো জান্নাত সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।

জাহিদ আর কার্ড টি না তুলে জান্নাতের সামনে গেলো।

জান্নাতের চোখে পানি,,,তা দেখে জাহিদ বললো,,

জাহিদ:কি লুকাচ্ছো চোখের কোণায় জান্নাত?

আমার জন্য ভালোবাসা তাইনা,,,

আমি জানি,তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো।

এর জন্যই একটু আগে যা ঘটে গিয়েছে তার জন্য তোমার চোখের পানি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু তুমি কোনো চিন্তা করো না,সময় সব সময় এক রকম যায় না,এই সময় টাও এক সময় পরিবর্তন হয়ে যাবে।

এসব যা হয়েছে,,, এগুলো ভুলে যাও।

তুমি আমার পাশে আছো,,,তারজন্য আমি সব কিছু সহ্য করে নিবো।

জান্নাত:তুই আমার লাইফ থেকে চলে কেনো যাচ্ছিস না?

আমার জীবন টা জাহান্নাম করে রেখেছিস।

কখনো কখনো মনে হয় তুই কি আসলেই আমার স্বামী নাকি আমার পাপের শাস্তি। 

জানি না,,বাবা কেনো আমার বিয়ে তোর সাথে জোর করে করিয়ে দিয়েছিলো।

আর তার জন্য আমি এখনো সেই ফল ভুগছি।

আরে তুই চাস টা কি বল?

না তুই আমার কখনো ছিলি,না কখনো হবি আর না কখনো হতে পারবি।

ড্রাইভার আজকে আসে নি অফিসে,, সেজন্য তোকে বলেছিলাম আসার জন্য। 

আরে আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম আমার হাসবেন্ড তো এরও যোগ্য না।

আমার সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাইন্ট মি,আরিফ কে তুই রাগিয়ে দিলি।

তুই যেখানে যাস, যেটাই করিস সেখানেই কেনো আমাকে অপমান হতে হয়?(কথাটা জোরে বললো) 

তুই আমার জীবনে শুধু মাত্র একটা বোঝা হয়ে আছিস।

গেট লস্ট,,,,,

কথা টা বলেই সামনের দিকে হাটতে লাগলো।

সামনেই জাহিদের আনা ফুলের তোরা টা দেখতে পেয়ে অফিস বয়কে বলতে লাগলো,, 

জান্নাত:এখানে এসব আবর্জনা কেনো পড়ে রয়েছে,,তাড়াতাড়ি এগুলো এখান থেকে পরিষ্কার করো।

বলেই ফুলের তোরায় একটা লাথি দিয়ে জান্নাত অফিস থেকে বের হয়ে গেলো। 

জাহিদের চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে আর জান্নাতের চলে যাওয়া দেখছে।

জাহিদ মনে মনে বলতে লাগলো,, 

জাহিদ:আমি কিছু মনে করি নি জান্নাত,,তুমি যা বলেছো তা ঠিক আছে।

আসলে আমার পরিস্থিতি টা খারাপ।

কিন্তু আমি জানি একদিন তুমি আমাকে ঠিকই বুঝতে পারবে।

এরপর,,,,

নিচে আগে থেকেই মি.আরিফ জান্নাতের জন্য গাড়িতে অপেক্ষা করছিলো।

জান্নাত গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো।

জাহিদ নিচে আসতে আসতেই জান্নাত, মি,আরিফের সাথে করে অফিস থেকে বেরিয়ে পরলো।

রাতের বেলা,, জাহিদ রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছে আর ভাবছে,,জান্নাত আমি তোমাকে দুনিয়ার সব সুখ এনে দিবো,,তুমি শুধুই আমার,,একদিন তুমি আমাকে ঠিকই বুঝতে পারবে।

হঠাৎ করেই জাহিদের ফোন বেজে উঠলো,, 

জাহিদ ফোন হাতে নিয়ে দেখলো তার শাশুড়ী আম্মু তাকে কল দিয়েছে।।

জাহিদ:হ্যালো,,

সাহেরা খাতুন:তুমি এখনো কোথায় আছো,,এতো রাতে বাহিরে কি করছো?

জাহিদ:এই তো আছি একটা জায়গায়,,

সাহেরা খাতুন:এতোক্ষন কি করছিলে?

জাহিদ:জান্নাত আমাকে অফিসে যেতে বলেছিলো আমি সেখানেই ছিলাম।

সাহেরা খাতুন:কই,,,জান্নাতের কাছে তাহলে ফোনটা দাও দেখি,,আমার ফোন ধরছে না।

জাহিদ:জান্নাত তো পাশে নেই,,

সাহেরা খাতুন:তুমি না বললে তোমার সাথে জান্নাত দেখা করতে চেয়েছিলো?

জাহিদ:দেখা করার পর তার একটা পুরাতন ক্লাইন্টের সাথে গাড়িতে করে কোথায় যেনো চলে গিয়েছে।

সাহেরা খাতুন:নিশ্চয়ই তুমি আমার মেয়ের সাথে কোনো ঝামেলা করেছো তার জন্য সে চলে গিয়েছে।

আমি এতো কিছু বুঝি না,তুমি এক ঘন্টার মধ্যে আমার মেয়েকে বাড়িতে এনে দিবে,তা-না হলে তোমার খবর আছে।

বলেই সাহেরা খাতুন রাগ করে কল টা কেটে দিলেন।

আর এদিকে জাহিদ চিন্তায় পড়ে গিয়েছে।

জান্নাত এতো রাত হয়ে গেলো এখনো বাসায় ফিরে নি, তাহলে গেলো টা কোথায়?

জাহিদ এর আগেও জান্নাতের মুখ থেকে কয়েকবার শুনেছিলো মি.আরিফের সম্পর্কে। 

মি.আরিফের একটা নাইট ক্লাব আছে।

আচ্ছা জান্নাত ওখানে যায় নি তো আবার?

জাহিদ এতো কিছু না ভেবে তারাতাড়ি বাইকে করে সেখানে চলে গেলো।

নাইট ক্লাবের ভিতরে যেতেই বডিগার্ড জাহিদকে হাত দিয়ে বাধা দিতে চাইলে, জাহিদ হাত সরিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো। 

এরপর সেখানে অনেক  ছেলে মেয়েকে ডান্স করতে দেখতে পেলেও জান্নাতকে কোথায় দেখতে পেলো না।

জাহিদ কয়েকবার জান্নাত বলে ডাক দেওয়ার পরেও জান্নাতের কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছে না।

টেনশনে জাহিদের শরীর ঘামতে লাগলো।

এদিক-সেদিক খুজার পর সিড়ির উপরে দেখতে পেলো মি.আরিফ জান্নাতের সাথে জোড়াজোড়ি করছে।

জান্নাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু নেশাগ্রস্ত হওয়াতে মি.আরিফের সাথে পেরে উঠছে না।

এক পর্যায়ে জান্নাত অজ্ঞান হয়ে যায়।

জাহিদ এটা দেখার পর দৌড়ে সেখানে গেলো।

জান্নাতের শরীরের উপর তখনও মি.আরিফ ঝুকে রয়েছে।

জাহিদকে দেখার পর মি.আরিফ বললো,,

মি.আরিফ:তুই এখানে,,তোকে কে এখানে আসতে দিয়েছে,,,তাড়াতাড়ি এখান থেকে চুপচাপ চলে যা।

জাহিদ গিয়ে মি.আরিফকে জান্নাতের উপর থেকে সরিয়ে সামনে এনে কয়েক টা ঘুষি দিলো।

এরপর একটা মদের বোতল ভেংগে মি.আরিফের গলার সামনে ধরে বললো,,

জাহিদ:আমি কোনো দারোয়ান নই,,বুঝতে পারলি,,আমি জান্নাতের হাসবেন্ড। 

তুই জান্নাতের পুরাতন ক্লাইন্ট হওয়ার জন্য জান্নাত তোকে অনেক বিশ্বাস করতো আর তুই যেই বিশ্বাসের আজকে এই সুযোগ নিয়েছিস?

আর আমার আসল পরিচয় যদি তোকে বলি তাহলে তোর অস্তিত্ব এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

তোকে আজকের মতো ছেড়ে দিলাম, জান্নাতের অবস্থা খারাপ বলে।

নেক্সট টাইম যদি তোকে জান্নাতের আশে পাশে দেখি তাহলে তোকে আর বাচিয়ে রাখবো না,কথা টা মনে রাখিস।

এরপর জাহিদ, মি.আরিফকে একটা ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দিলো।

মি.আরিফ ও সেখান থেকে পলায়ন করলো।

জাহিদ গিয়ে জান্নাতের একটা হাত তার কাধে রেখে আস্তে আস্তে করে সেখান থেকে বের হতে লাগলো।।এরপর বাড়িতে এসে জান্নাতকে তার খাটে শুইয়ে দিলো।

জান্নাতের পা থেকে জুতা গুলো খুলে জান্নাতের শরীরের উপর কাথা টা জড়িয়ে দিলো।

জাহিদ গিয়ে জান্নাতের মুখে এই প্রথম বার টাচ করলো।

ঘুমন্ত জান্নাতকে কতোই না মায়াবী লাগছে।

জান্নাতের মুখ বরাবর ফ্লোরে জাহিদ বসে পরলো।

এরপর বলতে লাগলো,,

জাহিদ:সরি জান্নাত,,জানি এটা তুমি পছন্দ করবে না আমি তোমার রুমে ঘুমানো টা।

কিন্তু আজকে তোমার এই অবস্থায় তোমাকে রেখে যেতে মন সায় দিচ্ছে না।

তাই আজকের রাত টা তোমার পাশে বসেই না হয় পাড় করে দেই।

এরপর জাহিদ, জান্নাতের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুমিয়ে পড়লো। 

সকাল বেলা জান্নাতের ঘুম ভাংতেই দেখলো জাহিদ ওয়াশরুম থেকে কেবলমাত্র গোসল করে এসেছে।

জান্নাত তো এটা দেখে রাগে আগুন হয়ে গেলো মুহুর্তেই।

সোজা বিছানা থেকে উঠে জাহিদের সামনে গেলো।

জান্নাত:তুই আমার রুমে কি করিস?

তোকে না বলছি তুই আমার রুমে আসবি না,, 

জাহিদ:দেখো,, কালকে তোমার অবস্থা খারাপ ছিলো,,তুমি নেশার ঘোরে ছিলে।

মি.আরিফ তোমার সর্বনাশ করতে চেয়েছিলো।

আমি তোমাকে সেখান থেকে বাচিয়ে এখানে নিয়ে এসেছি।

বাড়িতে এনে তোমাকে বিছানায় রাখার পর আমি এখানেই তোমাকে সারারাত পাহারা দিয়েছি।

জান্নাত:ও আচ্ছা,,, তুই চাচ্ছিস এগুলো করে আমার খুব নিকটে আসতে,,এই চিন্তা তুই মাথা থেকে ফেলে দে।

আমি সব জানি কালকে রাতে আমার সাথে কি কি হয়ে ছিলো। 

জান্নাত তার মানি ব্যাগ থেকে ফোনটা হাতে নিতে নিতে বললো,,

জান্নাত:আমি ওই লুইচ্চা আরিফকে দেখে নিবো,,আমার সাথে এসব কাজ করা।

কথা গুলো বলতে বলতে জান্নাত ফোন চেক করে দেখতে লাগলো তাদের যে বড় প্রজেক্ট টা আছে সেটা কতো টুকু এগিয়েছে।

সে চেক করে দেখতে পেলো তাদের প্রজেক্ট টা সরকারি অধিদপ্তর থেকে রিজেক্ট করে দিয়েছে।

এটা দেখার পর জান্নাত মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো।

একটু পর জান্নাতের ফোনে একটা কল আসলো।

ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো জান্নাতের দাদু কল দিয়েছে।

জান্নাত:হ্যালো দাদু,,

দাদু:সরি জান্নাত,,তোমাকে যে প্রজেক্ট টা দেওয়া হয়েছিলো সেটা আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি।

তুমি কাজ টা ঠিক মতো করতে পারো নি,,তোমার অফিসে আসার ও দরকার নেই আর।

বলেই কল টা কেটে দিলো।

জান্নাতের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেলো।

জান্নাত কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

মুখে হাত দিয়ে কান্না করতে লাগলো।

তা দেখে জাহিদ জান্নাতের সামনে এগিয়ে গেলো।

জাহিদ:কি হয়েছে জান্নাত?

আমাকে বলো,,,,

জান্নাত:আমার সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে,, আমার ড্রিম প্রজেক্ট,, যেখানে আমি এতো পরিশ্রম করেছি,দাদু সেটা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

আমাকে অফিসে যেতে বারন করে দিয়েছে।

(কথাটা বলেই জান্নাত কান্না করতে লাগলো)

জাহিদ:সবাই তো আমাকে অকর্মঠ বলে,,হয়তো তুমি ও,,

জান্নাত একবার এই অকর্মঠ হাসবেন্ড কে বিশ্বাস করে দেখো(জান্নাতের হাত দুটি ধরে)

জান্নাত হাত ছেড়ে দিয়ে অন্য দিকে মুখ রাখলো।

জাহিদ:আমার সাথে তোমার দাদুর কাছে যাবে?

আমার পুরো বিশ্বাস আছে হয়তো সামনা সামনি কথা বললে ওনি না করতে পারবেন না।

এরপর জাহিদ আর জান্নাত তার দাদুর অফিসে চলে আসলো।

জান্নাত জাহিদকে নিয়ে তার দাদুর কেবিনে ঢুকলো।

দাদু:এখানে কেনো এসেছো?

জান্নাত:দাদু প্লিজ🥹

দাদু:আমি বিজনেস এর মামলায় খুবই পরিষ্কার। 

আমি যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা কোনো রাগের মাথায় নেই নি।

এই প্রজেক্ট টা আমাদের কোম্পানির জন্য একটা স্বপ্ন।

এটা কোনো ভাবেই হাত ছাড়া করা যাবে না।

দেখো জান্নাত, তোমার দ্বারা এই প্রজেক্ট হবে না তাই আমি এই প্রজেক্ট মেহেদী কে দিয়ে দিয়েছি।

এখন থেকে এই প্রজেক্ট মেহেদী দেখবে।

তুমি চাইলে এখন থেকে বাড়িতে থাকতে পারো।

জান্নাত:দাদু,,প্লিজ এমন টা বলবেন না,,এই প্রজেক্ট টা আমারও স্বপ্ন আর আমি এর জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি।

জানি না,কি কারনে ওই অফিসার এপ্রোপ করে নি।

কিন্তু আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি যেভাবেই হোক আমি এই প্রজেক্ট আপনাকে এনেই দিবো।

তারজন্য প্লিজ,,,মেহেদী কে প্রজেক্ট টা দেওয়ার আগে আমাকে শেষ বারের মতো একটা সুযোগ দিন।

এটাই আমার শেষ সুযোগ প্লিজ,,,

দাদু:ঠিক আছে কিন্তু এই কাজ টা যেনো আজকেই হয়ে যায়,,,

জান্নাত কথা তা শুনে খুব খুশি হলো।

এরপর জাহিদকে সাথে করে সরকারি অধিদপ্তরের অফিসে গেলো।

জান্নাত গাড়ি থেকে নামতেই মেহেদী তাদের সামনে চলে আসলো।

মেহেদী:এপ্রোবল নেওয়ার জন্য এসেছো নাকি জান্নাত?

ওহহহ,,,তুমি তো অনেক দেরি করে ফেললে।

এখন আর কিছু করার নেই,,,কারন ভিতরে যে অফিসার বসে আছে।

তাকে আমি কিনে ফেলেছি।

এখন তুমি চাইলে ভিতরে যেতে পারো,,তাড়াতাড়ি যাও,,

যাও,,যাও,,যাও,,,

জান্নাত ভিতরে চলে গেলো,, 

মেহেদী জাহিদকে দেখে বললো,,

মেহেদী:আরে তুমিও দাড়িয়ে আছো কেনো,,,তুমিও যাও তাড়াতাড়ি যাও,,,,যাও যাও যও,,,, 

এরপর জাহিদ আর জান্নাত ভিতরে প্রবেশ করলো। 

জান্নাত অফিসারের সামনে গিয়ে বললো,,,

জান্নাত:মি.মারুফ,,,আমি কি আপনার সাথে দুই মিনিট কথা বলতে পারবো?

মারুফ:জ্বি বলুন,,,মিসেস জান্নাত,,কি কারনে এখানে আসা হলো?

জান্নাত:ড্রিম প্রজেক্ট এর সব ডকমেন্টস ঠিক আছে আমাদের, এরপর আমরা সব নিয়ম কানুন মেনে চলি।

তারপরেও কেনো আমার এই প্রজেক্ট টি রিজেক্ট করা হলো এটা কি আমি জানতে পারি?

পিছন থেকে একটা মেয়ে বলে উঠলো,,

মেয়ে:আমি মানা করেছি তার জন্য প্রজেক্ট টা রিজেক্ট হয়েছে।

জান্নাত পিছনে তাকিয়ে মেয়েটা কে দেখেই তো অবাক।

জান্নাত:নিলা তুমি এখানে?

নিলা:হুম আমি এখানে,,,

জান্নাত:কিন্তু তুমি এখানে কি করো?

নিলা:এখানেই তো আমি কাজ করি,,আর যেই অফিসারের সাথে তুমি এতোক্ষন কথা বলছিলে সে আমার হাসবেন্ড। 

যখনই আমি শুনতে পেরেছি তোমার একটা প্রজেক্টে এপ্রোবাল দরকার,তখনই আমি সেটা রিজেক্ট করে দিয়েছি।

আর আজকে আমার হাসবেন্ড এমন এক পজিশনে আছে,যেখানে তোমার প্রজেক্ট পাশ করে দিতে পারে আবার নষ্ট ও করে দিতে পারে।

আর তুমি তো অনেক কোটিপতি,দেখো টাকা দিয়ে কারো কাছ থেকে প্রজেক্ট পাশ করাতে পারো কি না।

জান্নাত:দেখো নিলা,তুমি যেটার জন্য আজকে এমন করছো সেগুলো অনেক পুরনো ঘটনা।

আমি ওই সময় একটু অন্য রকম ছিলাম।

প্লিজ তুমি আগের সব কিছু ভুলে যাও।

নিলা:না,,,,,আমি ভুলতে পারবো না,,মিসেস জান্নাত।

আমার এখনো মনে আছে সেই দিনের কথা,যেদিন আমার বিয়ে হচ্ছিলো।

সেদিন তুমি আমাদের সব বন্ধুদের সামনে আমার হাসবেন্ড ও আমাকে অনেক অপমান করেছিলে।

আমার হাসবেন্ডের একটাই দোষ ছিলো তিনি গরীব। 

আর তোমরা সবাই সেদিন সেই বিষয় টা নিয়ে অনেক মজা করেছিলে।

আমি সেই মুহুর্তে অনেক কান্না করেছিলাম।

জান্নাত:তার জন্য আমি সরি,,,আমি তো তোমাকে বলছি,,তখন আমি অন্যরকম ছিলাম।

তার জন্য আমি এখনও প্রস্তাচ্ছি।

নিলা:এখন প্রস্তালে কোনো লাভ হবে না জান্নাত,,সেদিনের প্রতিশোধ আজ আমি নিবো।

অপমানের বদলা তো অপমানই হয় তাই না?

জান্নাত:মানে?

নিলা:এই যে সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে এটা তোমার হাসবেন্ড তাই না?

তা একে কোথা থেকে ধরে নিয়ে এসেছো?

দেখে তো মনে হচ্ছে, সে আমার হাসবেন্ডের সামনে দাড়ানোরও যোগ্যতাও নেই।

আর শুনেছি সে নাকি ঘরজামাই থাকে।

জান্নাত:অনেক হয়েছে নিলা,,অনেক হয়েছে,, 

নিলা:এখনো তো আমি কিছু বলা শুরুই করলাম না,,

এখন শুনো,,,তোমার এপ্রোবাল লাগবে তাই না?

তার জন্য তোমার হাসবেন্ড কে এই অফিসের সবার সামনে হাত জোর করে এপ্রোবালের জন্য ভিক্ষা চাইতে হবে।

জান্নাত:নিলায়ায়ায়ায়ায়ায়া,,,(জোরে কথা টা বলল)

নিলা:এখানে চিল্লাবে না,,বাহিরে যাওয়ার রাস্তা এইদিকে।

তুমি এখান থেকে যেতে পারো।

জান্নাত রাগ করে বাহিরে বের হয়ে আসলো। 

বাহিরে এসেই মানিব্যাগ টা গাড়িতে জোরে একটা বারি মারলো রাগ করে।

পাশেই মেহেদী টং দোকানে বসে চা খাচ্ছিলো।

জান্নাতকে এমন অবস্থায় দেখে জান্নাতের সামনে এগিয়ে আসলো।

মেহেদী:আরে জান্নাত,,,কি হয়েছে তোমার,,এতো রাগ করছো কেনো?

এপ্রোবাল দেই নি বুঝি,,,সো সেড ইয়ার,,

এখন তো এই প্রজেক্ট টা আমার কাছে দিতে হবে তোমাকে।

জান্নাত:জাস্ট সেটআপ,,

মেহেদী:আরে রাগ করছো কেনো,,,তুমি তো এখন দাদুর সামনেও ছোটো হয়ে গেলে।

আহ,,ভাবতেও কি ভালো লাগছে আমার,,

এখন তো তোমাকে কোম্পানি টাও ছেড়ে দিতে হবে।

কিন্তু তোমাকে কোনো চিন্তা করতে হবে না,আমি একাই সম্পুর্ন কোম্পানি টা সামলাতে পারবো।

জান্নাত:তোকে তো,,,,

মেহেদী:কুল কুল কুল,,,তুমি আর তোমার অকর্মঠ হাসবেন্ড বাড়িতে গিয়ে ঘুমাও গিয়ে যাও।

তা তোমার হাসবেন্ড কে কোথাও দেখছি না কেনো?

কোথায় গেলো,,,এমনিতেই কোনো কিছু তো করেই না।

কি করে এখনো ভিতরে,, গিয়ে দেখো না গিয়ে,,আচ্ছা চলো আমিও তোমার সাথে ভিতরে গিয়ে দেখছি কি করছে সে।

এরপর জান্নাত এবং তার পিছন পিছন মেহেদী আবারও অফিসের ভিতরে প্রবেশ করলো। 

জান্নাত দেখতে পেলো জাহিদ নিলার সামনে হাত জোর করে বলছে,,

জাহিদ:আমি আপনার কাছে হাত জোর করে বলছি প্লিজ জান্নাতের প্রজেক্ট টা এপ্রোপ করে দিন,,প্লিজ।

জান্নাত এটা দেখে তাড়াতাড়ি জাহিদের হাত নিচে নামিয়ে দিলো।

জান্নাত:জাহিদ,,, তুমি এগুলো কি করছো?

নিলা:জান্নাত,,,তোমার হাসবেন্ড তো দেখছি তোমাকে অনেক ভালোবাসে।

তোমার জন্য অনেক কিছু করতে রাজি আছে।

তা কোথা থেকে একে খুজে পেলে?

যাই হোক,,কংগ্রাচুলেশনস,, তোমার প্রজেক্ট এপ্রোবাল হয়ে গিয়েছে। 

বলেই নিলা তার কেবিনে চলে গেলো।

জান্নাত,, জাহিদকে হাত ধরে টেনে সাইডে নিয়ে আসলো।

জান্নাত:এটা তুমি কি করেছো?তুমি কি চাচ্ছো?

তোমার কি মনে হয়,,তোমাকে অপমানিত হওয়ার পর এই প্রজেক্ট টা এপ্রোপ হলে আমি অনেক খুশি হবো?

চলো এখন এখান থেকে,,,

জান্নাত জাহিদকে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় মেহেদী গিয়ে তাদের সামনে দাড়ালো।

মেহেদী:তোর কি হয়ে হয়,,তোর এই অভিনয়ের ফলে জান্নাত তার সব কিছু আবার ফিরে পাবে?

আমি এটা কখনো হতে দিবো না।

জাহিদ:তুই তো কেনো,,দুনিয়ার কারো ক্ষমতা নেই জান্নাতের একটা পশম বাকা করার।

এখন এখান থেকে ফুট,,,

মেহেদী:কতোদিন তাকে সেভ করবি,,একদিন,দুইদিন,,এরপর দেখবি আমি তোদের সম্পর্ক টাই শেষ করে দিবো।

এরপর জাহিদ আর জান্নাত বাড়িতে চলে আসলো। 

বাড়িতে এসে রুমে বসে অপেক্ষা করছে তার দাদুর ফোনের জন্য। 

কিছুক্ষন পর তার দাদুর ফোন আসলো,,

জান্নাত:জ্বি দাদু বলুন,,

দাদু:জান্নাত,,তোমার উপর আমি অনেক খুশি হয়েছি,,আর সেই খুশিতে আমাদের পুরনো বাংলোতে কালকে রাতে একটা পার্টির আয়োজন করেছি।

তুমি আর জাহিদ কালকে সেখানে উপস্থিত থাকবে।

বলেই কল টা কেটে দিলেন।

জান্নাতের মুখে হাসি ফুটে উঠলো,তা দেখে জাহিদ বললো,,

জাহিদ:দাদু কি বলেছে?

জান্নাত:দাদু কালকে পার্টির আয়োজন করেছে, আমাদের দুজনকে সেখানে যেতে বলছে।

জাহিদ:সত্যিই আমাদের দুজনকে যেতে বলেছে?

জান্নাত:দুজন বলতে,,সবাইকেই যেতে বলছে,,

এরপর জান্নাত তার রুমে চলে গেলো। 

পরের দিন সন্ধা বেলা,,,

জাহিদ তার রুমে এসে আলমারি খুলে দেখলো সেখানে নতুন একটা ব্লেজার রাখা।

সেটা দেখে জাহিদ খুশি হয়ে জান্নাতের রুমে গেলো।

জান্নাতকে ব্লেজার টা দেখিয়ে বললো,,

জাহিদ:জান্নাত এটা কি তুমি আমার জন্য কিনে এনেছো?

জান্নাত:এতো খুশি হওয়ার দরকার নেই,,আমি কিছু ড্রেস বেশি অর্ডার করে ফেলেছিলাম।

সেগুলো রিটার্ন দেওয়ার সময় ফেরত না নেওয়াতে তোমার জন্য এটা নিয়ে এসেছিলাম।

এটা পড়েই পার্টিতে যেয়ো।

জাহিদ:ও আচ্ছা,,,ঠিক আছে।

এরপর জাহিদ ব্লেজার টা নিয়ে তার রুমে চলে গেলো।

জাহিদ চলে যাওয়ার পর জান্নাতের ফোনে তার চাচাতো বোন শীলা কল দিলো।

জান্নাত:হুম শীলা বল,,,

শীলা:আমি বুঝলাম না,,তুমি জাহিদের জন্য স্পেশাল ভাবে অর্ডার দিয়ে এতো দামি ব্লেজার কিনলে কেনো?

এটা তো ভালো লক্ষ্যন দেখছি না,,

জান্নাত:সেটা আমার ইচ্ছা,,এতে তোকে নাক গলাতে হবে না,এখন কল রাখ পরে কথা হবে।

বলেই জান্নাত কল টা কেটে দিলো।

এরপর একটা মুচকি হাসি দিলো জান্নাত।

জাহিদ আর জান্নাত রাতে পার্টিতে চলে আসলো।

জাহিদ নীল ব্লেজারের ভিতরে সাদা শার্ট আর কালো পেন্ট সাথে কালো সুজ।

আর জান্নাত নীল পার্টি ড্রেস পড়েছে।

পার্টিতে এসেই জান্নাত তার বান্ধুবীদের কাছে চলে গেলো জাহিদকে একা রেখেই।

এদিকে মেহেদী ও তার বোন শীলা সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলো।

জাহিদ আর জান্নাতকে দেখার পর তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে,,

শীলা:তোমাকে একটা কাজ দিলাম, সেটাও তুমি পারলে না?

মেহেদী:সব সময় সব কিছু হয় না।

কিন্তু আজকে এই পার্টিতে এমন কিছু একটা হওয়া দরকার,যেখানে জাহিদ আর জান্নাত দুজনই অপমান হবে। 

আর সব দোষ জাহিদের উপরেই পড়বে।

শীলা:কিন্তু সেটা কিভাবে?

মেহেদী:তুই শুধু দেখতে থাক,,দেখ আমি কি করি।

মেহেদী মদের গ্লাস থেকে এক ঢুক চুমুক দেওয়ার পর জাহিদের সামনে গেলো।

মেহেদী:আরে দুলাভাই,,,আপনার পড়নের ব্লেজার টা তো অনেক দামি।

আপনার যা ক্ষমতা, সেক্ষেত্রে এটা তো আপনার কিনার বাহিরে তার মানে বউয়ের টাকায় কিনা এই ব্লেজার,,হাহাহাহাহাহাহা,,,,

শীলা:আরে দুলাভাই,,আপনি ভাইয়ার কথায় কিছু মনে করবেন না।

আসলে দুলাভাই তো ঘরজামাই, আর ঘরজামাই তো বউয়ের টাকাই চলবে।

এতে আবার দোষের কি আছে,,কি ঠিক বলেছি না ভাইয়া?

মেহেদী:ঠিক বলেছিস কি না জানি না,কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা।

শীলা:কি কথা ভাইয়া?

মেহেদী:আমার তো মনে হয় না,,জান্নাত,, জাহিদকে ভালোই বাসে না,,

যদি ভালোই বাসতো তাহলে তার হাসবেন্ড কে রেখে অন্য লোকদের সাথে গিয়ে আড্ডা দিতো না।

শীলা:দুলাভাই,,মনে কষ্ট নিয়েন না,,আচ্ছা চলেন আমরা একসাথে গিয়ে মদ খাই,,

জাহিদ:না না,,,আমি এসব খাই না।

মেহেদী:কি বলেন দুলাভাই,,এতো বড় পার্টি,, চলো চলো আমাদের সাথে,,মদ খাবেন।

জাহিদ তাদের সাথে যাবে না,,বলা সত্ত্বেও তারা জাহিদকে জড়াজড়ি করে নিয়ে গেলো মদের ভারে।

এরপর জোর করে জাহিদকে কয়েক গ্লাস মদ খাইয়ে দিলো।

মেহেদী পকেট থেকে একটা প্যাকেট বের করে সেটা মদের গ্লাসের সাথে মিশিয়ে জাহিদকে খাইয়ে দিলো।

একটু পর জাহিদের কাছে মনে হচ্ছে সব কিছু বন বন করে ঘুরছে।

এরপর মেহেদী একবার শীলার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো,,,

মেহেদী:লেডিস এন্ড জেন্টালমেন্ট,, পরিচয় হয়ে নিন আমাদের পরিবারের জামাই মি.জাহিদের সাথে।

কি দুলাভাই বলুন,,,আপনি কিছু বলুন,,, 

জাহিদ:ও আচ্ছা,, এরজন্য তুমি আমাকে জোর করে মদ খাইয়েছো?

তাহলে শুনো আমি কি বলতে চাচ্ছি,, 

পরের পর্ব পড়তে হলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

Link


Post a Comment

Previous Post Next Post