Top News

রহস্যময় ঘরজামাই😎 part 3

 গল্প:রহস্যময় ঘরজামাই😎

...............👉 (পর্ব-৩


) 👈..............


জাহিদের কথা শুনে আসে পাশে থেকে সবাই একত্রে সেখানে হাজির হলো।

জাহিদ মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বললো,,

জাহিদ:আরে শা*লা,,,সবার আগে আমি তোমার সম্পর্কে বলবো,,তুমি এক নাম্বারে লোভি আর খারাপ মানুষ। 

ড্রিম প্রজেক্ট টা তুমি নিজের করে নেওয়ার জন্য জান্নাতকে রাস্তা থেকে সরায়ে চাচ্ছো তাই না?

তুমি এমনকি আমাদের সম্পর্ক টাও নষ্ট করতে চাচ্ছো।

জাহিদের এমন কথা শুনে মেহেদী তো অনেক লজ্জিত বোধ করছে সবার সামনে।

তাই মেহেদী কথা কাটানোর জন্য বললো,,

মেহেদী:জাহিদ এসব তুমি কি বলছো?

উত্তরে জাহিদ মুখে আংগুল দিয়ে মেহেদী কে চুপ থাকতে বললো।

জাহিদ:চুপ,,,,এখনো আমার সম্পুর্ন কথা শেষ হয় নি।

আমি কোথায় যেনো ছিলাম,,ও হ্যা মনে পড়েছে,,তুমি এই কোম্পানি টা পাওয়ার জন্য অনেক প্লান করেছো।

তুমি দাদুর কান ভারী করে জান্নাতের উপর চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছো।

জাহিদের এমন কথা শুনে জান্নাতের দাদু বললো,,

দাদু:জাহিদ এসব কি শুরু করেছো তুমি?

জাহিদ দাদুকে দেখে বললো,,

জাহিদ:ও দাদু,,আপনার কথা আর কি বলবো,,আপনি উপরে উপরে জান্নাতকে কোম্পানিতে বসাতে চাইলেও ভিতরে ভিতরে আপনি মেহেদী কেই এই কোম্পানিতে বসাতে চাচ্ছেন।

এরজন্য আপনার প্রতিটি কথা মেহেদীর পক্ষে আর জান্নাতের বিপক্ষে যায়।

তখন শীলা বলে উঠলো,,

শীলা:জাহিদ,,,এটা আমাদের দাদু হয়,,,

জাহিদ:হুম আমি জানি,,,জান্নাতের বিপক্ষে তুমি আর মেহেদী এক সাথে মিলে গিয়েছো।

যতোই হোক তোমরা দুজন চাচাতো ভাই বোন যে হও।

এমনিতে একজন আরেকজনকে দেখতে না পারলেও,,যখন জান্নাতের বিষয় উঠে আসে তখন তোমরা দুজন এক হয়ে যাও।

এরজন্যই তো তোমরা দুইজন আমাকে জোর করে মদ খাইয়ে দিয়েছো।

যেনো আমি সবার সামনে অপমানিত হতে পারি।

কিন্তু,,, কিন্তু আমি জান্নাতের পাশে আছি,আমি থাকতে কেউ জান্নাতের কিছু করতে পারবে না।

সত্যি বলতে তোমাদের সবার থেকে জান্নাতই একটা মেয়ে আছে, যে কিনা সবার থেকে বুদ্ধিমতি।

সে সবার অনেক চিন্তা করে,এবং পরিবার ও ব্যবসার উপর সে অনেক দায়িত্বশীল মেয়ে।

কিন্তু আফসোস এটাই যে,, জান্নাতের সাথেই সব সময় ঝামেলা হয়।

এতোক্ষন ধরে জান্নাত জাহিদের সব কথা শুনছিলো।

জাহিদ নেশার ঘোরে থাকলেও যা যা বলেছে সব সত্যি কথাই বলেছে।

আর এসব কথা শুনে জান্নাত অবাক হয়ে যায়। 

এরপর মেহেদী জাহিদের সামনে গিয়ে হাতে ধরে বললো,,

মেহেদী:অনেক অপমান করেছিস আমাদের কে নিয়ে। 

এখন ভালো হবে তুই এখান থেকে চলে যা। 

এটা বলেই মেহেদী জাহিদকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।

জাহিদ গিয়ে জান্নাতের পায়ের সামনে পড়লো।

এটা দেখে মেহেদী হাসতে হাসতে বলে উঠলো,, 

মেহেদী:তুই আগেও জান্নাতের জুতার বরাবর ছিলি আর আজকেও সেম জুতার বরাবরই আছিস।

জাহিদ উপরে তাকিয়ে দেখলো সামনে জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে।

জান্নাত জাহিদকে হাত দিয়ে উঠে দাড় করালো।

জাহিদ এখনো নেশার ঘোরে আবোল তাবোল বলে যাচ্ছে।

হঠাৎ জান্নাতের চোখ রাগে লাল হয়ে গেলো।

জান্নাত মেহেদী আর শীলাকে উদ্দেশ্য করে বললো,,

জান্নাত:আজকে তোমরা দুইজন লজ্জা শরমের মাত্রা পাড় করে ফেলেছো।

কাউকে নিচে নামানোর জন্য তোমরা দুজন এমন করবি সেটা আমার জানা ছিলো না।

কিন্তু একটা কথা তোমরা ভালো করে শুনে রাখো,,জাহিদ আমার হাসবেন্ড হয়।

আর কেউ আমাদের দুজনকে আলাদা করতে পারবে না।

এবং আজকের পর থেকে জাহিদকে যদি কেউ কিছু বলো তাহলে তার অবস্থা ভালো হবে না।

জান্নাতের এমন কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে যায়।

বিশেষ করে তার মা সাহেরা খাতুন সব চেয়ে বেশি অবাক হয়।

তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না তার মেয়ে এসব কথা বলবে।

তখনই সাহেরা খাতুন মেহেদীর কাছে গিয়ে বললো,,

সাহেরা খাতুন:মেহেদী,, এসব কি নাটক শুরু করে দিয়েছো তোমরা? 

মেহেদী:কি আর বলবো আন্টি,,এই যে জাহিদ, সে তো আমাদের খানদানের মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে।

আর আপনার মেয়েও এখন তার সাথে তাল মিলাচ্ছে।

সাহেরা খাতুন একটা দৈর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,,

সাহেরা খাতুন:এখন আমাদের করারই বা কি আছে।

জান্নাতের বাবা,,বেচে থাকতে আমাদের কথা উপেক্ষা করে জান্নাতের সাথে এই ফকিরের বিয়ে দিয়েছে।

মেহেদী একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,

মেহেদী:এখনো অনেক কিছু করা সম্ভব,, যদি আপনি রাজি থাকেন তো এখনো জাহিদকে জান্নাতের জীবন থেকে সরানো যাবে।

সাহেরা খাতুন:সেটা কিভাবে?

এরপর মেহেদী সাহেরা খাতুনের কানের সামনে তার মুখ নিয়ে গিয়ে এমন কিছু বললো যা শুনে সাহেরা খাতুন মুচকি একটা হাসি দিলো।

সাহেরা খাতুন:ঠিক আছে আমি রাজি আছি কিন্তু আমার মেয়ের যেনো কোনো ক্ষতি না হয়।

মেহেদী:এটা নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা করা লাগবে না আন্টি।

এদিকে জান্নাত জাহিদকে ধরে কোনো রকমে বাহিরে চলে আসলো।

বাহিরে এসে গাড়িতে বসিয়ে বাড়িতে চলে আসলো।

জান্নাত বুঝতে পেরেছে আজকে যা যা হয়েছে তার জন্য মেহেদী আর শিলা ই দায়ী।

কিন্তু এটা ভেবে জান্নাতের মন টা ভালো হয়ে গেলো,,জাহিদ আজকে যা যা বলেছে সেগুলো সব সত্যি কথাই বলেছে। 

যা জান্নাত এতো বছর ধরে কাউকে বলতে পারে নি।

জান্নাত জাহিদকে ধরে তার রুমে এনে খাটে শুইয়ে দিলো।

জাহিদকে শুয়াতে গিয়ে জাহিদ নেশার ঘোরে জান্নাতের ঘাড়ে শক্ত করে হাত রাখলো।

যার ফলে জান্নাত জাহিদের বুকে এসে পড়ে গেলো। 

জাহিদ যেনো জান্নাতকে ছাড়তেই চাচ্ছে না।

তখনও জাহিদ বলে যাচ্ছে,,জান্নাত আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,,কেউ তোমাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরাতে পারবে না।

আমি সব সময় তোমাকে প্রটেক্ট করবো। 

এটা শুনে জান্নাতের মুখে একটা হাসি ফুটে উঠলো।  

এরপর জান্নাত জাহিদের হাতটা ছাড়িয়ে নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লো। 

সারারাত জান্নাত জাহিদের কথাই চিন্তা করতে লাগলো।

তার যেনো আজকে ঘুমই আসছে না।

ভোর বেলার দিকে জান্নাতের চোখে ঘুম আসলো।

সকাল বেলা জাহিদের ঘুম ভাংলো। 

ঘুম ভাংতেই জাহিদের সব কিছু মনে পড়তে লাগলো।

রাতে সে কি কি করেছে।

জাহিদ এখন ভয় পাচ্ছে এই ভেবে যে,,সে এখন জান্নাতের সামনে কিভাবে যাবে?

কিচেনের টুংটাং শব্দে জান্নাতের ঘুম ভেংগে গেলো।

চোখ খুলতেই সে দেখতে পেলো,জাহিদের হাতে দুই কাপ কফি নিয়ে তার দিকেই আসছে।

জাহিদ:গুড মর্নিং,,, সরি কালকে রাতে যা যা হয়েছে তার জন্য আমি লজ্জিত।

আমার কারনে হয়তো কালকে আপনার আবারও নতুন কোনো সমস্যা হয়েছিলো।

জান্নাত জাহিদের দিকে একবার তাকিয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে বাথরুমের দিকে পা বাড়ালো।

জাহিদ একটু গলা খাকিয়ে বললো,,

জাহিদ:কালকের জন্য সরি,,কফির কাপ টা তো নিন,,

জান্নাত:আমি এখন ওয়াশরুমে যাবো,,এরপর এসে কফি খেয়ে নিবো।

এটা বলেই জান্নাত ওয়াশরুমে চলে গেলো।

জাহিদ আবার রান্নাঘরে চলে গেলো।

একটু পর জান্নাত রান্নাঘরে আসলো কিছু একটা নেওয়ার জন্য। 

এসে দেখলো,, জাহিদ আটা গুলাচ্ছে।

জাহিদের নাক চুলকাচ্ছিলো,,সেজন্য জাহিদ জান্নাতকে বললো,,

জাহিদ:আমার নাক টা চুলকাচ্ছে৷ 

জান্নাত জাহিদের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকাতেই জাহিদ চুপ হয়ে গেলো। 

আর নিজের হাত দিতেই চুলকাতে লাগলো।

এটা করতে গিয়ে জাহিদের পুরো মুখে আটায় ভরে যায়।

জান্নাত পানি নেওয়ার জন্য সামনে যায় আর যখন জাহিদের দিকে তাকালো,,জাহিদকে দেখা মাত্রই তার মুখ দিয়ে হাসি বের হয়ে আসলো।

কিন্তু সেটা জাহিদকে বুঝতে না দিয়ে, ভিতরেই হাসিটাকে লুকিয়ে রেখে সেখান থেকে চলে গেলো।

এরপর জান্নাত তার রুমে এসে খিলখিলিয়ে হাসতে লাগলো।

তার হাসির শব্দ জাহিদের কানে পর্যন্ত চলে আসলো।

যার ফলে জাহিদের মুখেও হাসি ফুটে উঠলো।

হঠাৎ জাহিদের ফোনে কল চলে আসলো।

জাহিদ হাত ধোয়ে ফোনের সামনে যেতেই দেখলো ইকবাল ফোন করেছে।

জাহিদ কল টা রিসিভ করে বললো,,,,

জাহিদ:আপনাকে কে না ফোন দিতে নিষেধ করেছি তারপরেও কেনো ফোন দিয়েছেন?

অপর প্রান্ত থেকে বললো,,

ইকবাল:আপনি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা জানার জন্য কল দিয়েছি।

আপনি কিছু বলবেন নাকি আমিই কিছু একটা করবো?

জাহিদ কিছুক্ষন চুপ থেকে এরপর বললো,,

জাহিদ:আপনি কেনো আমার পিছনে লেগেছেন?

আপনাকে আমি আগেও বলেছি আর এখনো বলছি,, আমি চাই না আমার আসল সত্যতা কেউ জানুক,,যে আমি একজন মিলিনিয়ার,,,এই কথাটা গোপন থাকাই ভালো। 

এটা বলেই জাহিদ ফোনটা কেটে দিলো।

এরপর জাহিদ আবারও রান্না করতে শুরু করলো জান্নাতের জন্য। 

এদিকে জান্নাত ওয়াশরুম থেকে গোসল করে বের হয়ে আলমারি খুলে জামা বের করতে গিয়ে মেজাজ গরম হয়ে যায় জাহিদের উপর।

জান্নাত রান্নাঘরে এসে জাহিদের দিকে রাগান্নিত লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post